জুহীর জীবনের গল্পটা অন্য রকম …


আমার ছোট মেয়ে জান্নাতুল জাফরীন জুহীর ক্যান্সার চিকিৎসা নিয়ে ভারতের মুম্বাই “টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার ও হাসপাতাল (টিএমসি)” এর কিছু কথা।
২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাস, আমার ছোট মেয়ে জান্নাতুল জাফরীন জুহির বয়স তখন সাড়ে ৫ বছর। এই বয়সে মেয়েটা মাঝে মধ্যে হাটাহাটির সময় অল্প পরিমান ইনব্যালেন্স হয়ে হাটে। হঠাৎ জুহী কয়েক দিন ধরে মাথা ব্যাথা বলে রাতে কান্নাকাটি শুরু করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেড্রিটিয়াক বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল মান্নানের নিকট তখন নিয়ে গেলাম ল্যাবএডে। তিনি মেয়েকে দেখে ভিটামিন লিখে দিলেন সংগে সংগে। এরপর চোখের ডাক্তার অধ্যাপক মোহাম্মদ আরিফের কাছে নিয়ে গেলাম, তিনি শান্তি নগরে বসেন। ভালো ভাবে চোখের পরীক্ষা করে বললেন, চোখ ভালো আছে। মাথা ব্যাথা করার জন্য তিনিও ভিটামিন লিখে দিলেন। ভিটামিন ঔষধ খাওয়ার পরও মাথা ব্যাথা ভাল না হওয়ায় জুহীর মা বলে, ওকে একটু নিওরো মেডিসিন এর ডাক্তার দেখানো যায় না। আমি তার পরের দিন নিয়ে যাই ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নিউরোসাইন্স ইনস্টিটিউট হাসপাতাল (নিনস)। সেখানে এমআরআই ও সিটি স্ক্যান করে ধরা পড়ে ব্রেন টিউমার।
ব্রেন টিওমারে অসুস্থ থাকায় আমার প্রাণ সম্পদ মেয়ে জান্নাতুল জাফরীন জুহির নিদারুণ কষ্ট দেখে আমার বুকটা হাহাকার করে উঠে। ওকে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাই। ভর্তির ১২ দিন পরে অপারেশনের সিরিয়াল পাই ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউরোসার্জারী বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রাজিউল হকের Raziul Haque নেতৃত্বে সহঃ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রাসেদ মাহমুদ Rashed Mahmud , সহঃ অধ্যাপক ডাঃমোঃ ইসমে আজম জিকো Isma Azam Zico সহ অন্য চিকিৎসক বৃন্দের ১টি দল সকাল ৮ টায় অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে প্রায় ৫ ঘন্টা ধরে ব্রেন টিউমার সার্জারী করে। চিকিৎসকদের সফল সার্জারীর পর বাইপসি করে ধরা পরে, মেডিলো ব্লাসটমা, গ্রেড-৪, যা এক ধরনের ক্যানসার। পরিবারিক জীবনে নেমে আসে আমার অন্য রকমের এক ঘটনা।
উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০১৮ সালের ৯ই জানুয়ারী গভীর রাতে আমার পরিবার নিয়ে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ভারতের দিল্লীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। পরদিন ১০ জানুয়ারী সকালে দিল্লী শহরে পৌছাঁই। তার পরের দিন ১১ জানুয়ারী ভোর ৬টায় দিল্লী “অল ইন্ডিয়া ইনষ্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্স (এইমস)” এ চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করি। অল ইন্ডিয়া ইনিষ্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্স (এইমস) এ গেলাম। ১০ টাকা দিয়ে নাম রেজিস্ট্রেষন করে হেলথ কার্ড করালাম। তারপর হেলথ কার্ড নিয়ে গেলাম মেডিসিন (ওপিডি), ওখান থেকে পেড্রিটিয়াক (ওপিডি), নিওরো(ওপিডি), অনকোলজি (ওপিডি) সেখানে আমাদের পরবর্তী তারিখ দিলো ১ মাস পর। হোটেলে ফিরে সিদ্ধান্ত নিলাম ১মাস অপেক্ষা করা যাবে না, টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল মুম্বাই এ চলে যাওয়ার।
১৫ই জানুয়ারী দুপুরে দিল্লী হজরত নিজামউদ্দিন রেল ষ্টেষন থেকে রাজধানী ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে চেপে বসে ৩৬ ঘন্টার আরাম দায়ক ট্রেন ভ্রমন করি। ১৬ জানুয়ারী মুম্বাই সেন্ট্রাল রেল ষ্টেষন (সিআইএসটি) থেকে নেমে ট্যাক্সি নিয়ে ‘বুকিং ডটকম’ এর বুক করা মুম্বাই ‘প্রভাদেবী’ এলাকায় ‘সামানা প্রেস’ সংলগ্ন এক ফ্লাটে এসে উঠলাম, ফ্লাটে উঠেই দৌড় দিই, টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে। সংগে ছিলেন মুম্বাই চিত্র জগতের হিন্দি সিনেমার সেট পরিচালক ফরিদপুরের বাঙ্গালী সন্তান গোবিন্দ বৈদ্য বাবু। অনেক ভালোবাসার মানুষ গোবিন্দ বৈদ্য বাবু আর নাজমুল হক প্রধান এমপি এই দুজন টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে আসার জন্য বলেছিলেন, চলে আসি তাদের কথাতেই। তাদের জন্য রইলো আমার শুভ কামনা।
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাই সিটিতে অবস্থিত মুম্বাই টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার (হাসপাতাল) এর সাথে ২০১৮ এর ১৭ই জানুয়ারী প্রথম পরিচয় হলো। ১৮ই জানুয়ারী নিউরো অনকোলজি ওপিডি বিভাগের লেডি ডাঃ দিশা এসে রোগী দেখলেন। টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল এর নিয়ম নীতি অনুযায়ী এক কালীন ৫০ হাজার রুপি (টাকা) জমা করে দিয়ে নামের অর্ন্তভুক্তি (রেজিষ্ট্রশন) করালাম। আমার মেয়ের নামে একটা ফাইল খোলা হলো। সেই ফাইলে একটা নম্বর পড়লো, যে নম্বরটা সেই ফাইলে দেয়া হলো, সেটা কাকতালীয় ভাবে আমার জন্ম সাল। সেই ফাইলের একটা পাস ওয়ার্ড দেয়া হলো, সেটা আবার আমার মেয়ের জন্ম সাল। কয়েক দিন পরে নিওরো অনকোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডাঃ তেজপাল গুপ্তাকে দেখালাম।
এক সপ্তাহ পর আমি পরিবার রেখে একা এক দিনের জন্য বিমানে ঢাকায় চলে আসি। আর তার পরদিন আবার স্লাইড ব্লক নিয়ে চলে আসি। এরপর এমআর আই করাই প্রভাদেবী এলাকায় “ম্যাক্সিস” থেকে, টাটার ডক্টরই বলেন ওখানে করাতে। সেদিন সব রিপোর্ট (বায়প্সি সহ) সব হাতে পেয়ে যাই। তারপর দীর্ঘ কয়েকদিন রক্ত টেস্ট, বাইপসি,এফএনএফ টেস্ট, টেষ্টের রিপোর্ট এরপর শুরু হয় চিকিৎসা।ওপিডির ডাক্তার দেখাই বিকালে। সবাই বলেন টাটাতে অনেক দেরি হয়। আমার কাছে অতটা দেরী মনে হয়নি। মনে হলো নিয়ম মাফিক পথে আগালে, আর কমিনিউকেশন ঠিকঠাক করতে পারলে সব তাড়াতাড়ি সম্ভব। চিকিৎসা শুরু হওয়ার সাথে সাথে আমার মনটা ভালো হয় যায়।
সপ্তাহে শনি ও রবিবার ২দিন সরকারী বন্ধ মুম্বাইয়ে। সপ্তাহে ৫ দিন করে ৩১টা রেডিও থেরাপি (রেডিয়েশেন) দেয়া হয়। এক টানা ৩ মাস চিকিৎসার জন্য অবস্থান করতে হলো পুরো মার্চ মাস পর্যন্ত আমাদের। ডাঃ দিশা, ডাঃ নিশা,ডাঃ মেঘা, ডাঃ রোশনি, ডাঃ মনিশ,গবেষক ডাঃ নাজিয়া, নিউরো অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ তেজপাল গুপ্তা, পেড্রটিয়াক অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ গিরিশ চাওয়ের মতো ডাক্তারদের আন্তরিকতা ও ব্যবহার আমাকে মুগ্ধ করে। তাদের চিকিৎসা নিয়ে আমরা বাংলাদেশে চলে আসি। কস্টদায়ক মনটা ভালো হয়ে যায় আমার।
১মাস পর আবার পরবর্তী চেকআপের জন্য মুম্বাই যাই, ৭দিন থেকে ৬ মাসের ঔষুধ নিয়ে বাংলাদেশে আবার চলে আসি। আর দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবদুল বারী ও সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শাহিদুল ইসলাম জাহিনের অধিনে চিকিৎসা সেবা নিয়েছি ৬ মাসের। সেই সময় মনটা অনেক কস্ট দায়ক ছিল, পরে তা ভালো হয়ে যায়।
আমি আমার পরিবারকে নিয়ে ৩য় বারের মত টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার (টিএমসি)তে ১৯ নভেম্বর, সোমবার ২০১৮ তে যাই, তার পরের দিন মঙ্গলবার, সারা ভারতে সরকারী ছুটি। পেড্রেটিয়াক অনকোলজি (ওপিডি) এর ডাঃ গিরিশ চাওকে দেখাতে যাই ১৯ নভেম্বর ২০১৮। ডাঃ গিরিশ চাও এমআর আই ও রক্তের বিভিন্ন টেষ্টের রিপোর্ট দেখে সন্তষজনক বলে মন্তব্য করেন। ডাঃ তেজ পাল গুপ্তা একইভাবে সন্তসজনক বলে মন্তব্য করেন।
আমার সারে ৬ বছরের মেয়ে জান্নাতুল জাফরীন জুহি সোনা মনিটার অসুখ আল্লাহাতালা আপাতত ভাল করে দিয়ে ছেন, আল্লাহাতালার কাছে জানাই আমি ও আমার পরিবার লাখ কোটি শুকরিয়া, আল্লাহ ভরসা। ইনশাআল্লাহ আমার মেয়ে জান্নাতুল জাফরীন জুহি যেন সুস্থ হয়ে ওঠে সেজন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন। তবে পরবর্তী ৬ মাস অন্তর অন্তর চেক আপে ৫ বছর অবজারভেশনে রাখতে হবে। মহান আল্লাহ মামনি জুহীর জন্য নিশ্চয়ই দয়াবান হবেন। হে আল্লাহ তুমি আমাদের সকল প্রকার বালামুছিবত থেকে রক্ষা কর।
সত্য সুন্দর, সত্য কঠিন,কঠিনেরে ভাল বাসিলাম। এই পৃথিবীতে মানুষের উপরে উঠার কত প্রতিযোগিতা, কত চাহিদা,কত চাওয়া, কত পাওয়া। অথচ ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে যাওয়া পরিবারগুলোর কোন চাওয়া পাওয়া নেই,তারা শুধু চায় এই পৃথিবীতে তাদের স্বজন যেনো একটু বেশি দিন উপভোগ করতে পারেন৷ প্রিয় মানুষকে নিজেদের পরিবারের জন্য বাঁচাতে চায় সকলে। আল্লাহকে এই জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ দিই ক্যান্সারের মত এক উপহার আমার পরিবারের উপর দেয়ার জন্য।
এই পৃথিবীর জাগতিক মোহ, কামনা, আকাঙ্ক্ষা, লোভ এসব ত্যাগ করবার মধ্যে যে কি আনন্দ তা অন্য কেউ বুঝতেও পারবে না। তবুও প্রার্থনা করি, আল্লাহর কাছে আর অন্য কোন পরিবারের কারো যেনো এমন ধরনের গুরুতর অসুখ না দেন। আল্লাহ আপনি ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে যাওয়া সকল রোগীকে ভালো রাখুন। আর লড়াই চালিয়ে যাওয়া সকল রোগী কে জয়ী করে দিন।
বাংলাদেশের ডাক্তারদের প্রতি আস্থা হীনতার অভাবে ও ডায়াগনোসিস এর ভূল রিপোর্টের কারনে টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার হাসপাতাল সহ অনেক বড় বড় হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছি আজ আমরা। শুধু বাংলাদেশ নয় কলকাতায়ও একি অবস্থা, আমার পরিচিত অনেক পিয়ারলেস, কলকাতা মুকুন্দপুর, কলকাতা এপোলো চিকিৎসা করে কোন উপকার পাননি বরং সম্মুখীন হয়েছে ক্ষতির। কিন্তু মুম্বাই টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার তেমন নয়।
আমি বলি আল্লাহ পাকের God give Tata Memorial Hospital, টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে যারা যায়, আমার জানা মতে তাদের অধিকাংশই সুস্থ ভাবে দেশে ফিরে আসছে, আমিই তার প্রমাণ। সেখানকার ডাক্তার, নার্স,পিয়নদের ব্যবহার অমায়িক। কিছু কিছু লজ মালিক ভাল আবার কিছু লজ মালিক ভাল না, মুমবাই টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে সবাই ধৈর্য নিয়ে থাকবেন, ইনশাআল্লাহ ভাল ফল পাবেন।
Tata Memorial Hospital is The best Cancers Hospital in India, I thinks that it is much better than AIIMS Delhi. হাসপাতালের ৬টি ভবনের ভিতর দুইটি ভবনের ছবি দিলাম। প্রথমটি প্রধান ভবন,বাকি ২টি ছবি হোমিও বাবা ভবনের।
ক্যানসার চিকিৎসার একটি অনন্য বিশ্ব নন্দিত প্রতিষ্ঠান মুম্বাই “টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার হাসপাতাল”। এটি একাধারে রোগের চিকিৎসা, গবেষণা, শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে নিবেদিত। টাটা মেমোরিয়াল হসপিটাল ক্যানসার রোগের ২১৬ প্রকারের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে।
১৯৪১ সনের ২৮ ফেব্রুয়ারী মুম্বাই শহরের প্যারেলে স্যার দরাবজী টাটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার হাসপাতাল বর্তমানে যা আজ টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার হাসপাতাল নামে পরিচিত এবং চিকিৎসা কেন্দ্রটি সরকারী করন হয়েছে। টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার হাসপাতালে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার শত শত দরিদ্র রোগীর ভিড় বাড়ছে। বিস্ময়কর যে, কত শত রোগী সিট না পেয়ে টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের চার পাশের রাস্তার বহুদূর পর্যন্ত ফুটপাতে শয্যা ফেলে পড়ে আছেন আউটডোর বা ওপিডি চিকিৎসার জন্য। ভারতীয় দারিদ্র মানুষের জন্য নাম মাত্র খরচে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে। টাটা মেমোরিয়াল হসপিটালের অজানা কথা জেনে, জানাই শুধুই কৃতঙ্গতা। ডাক্তার ও নার্স ও স্টাফদের সদাচরণ, দক্ষতা, স্পীড ও অভিজ্ঞতা দেখে সত্যি আমি অবাক হয়েছি। কোন ডাক্তারকেই স্যুট টাই পরতে দেখিনি, কোন নার্স/মেট্রনই ন্যুনতম মেকাপ করেন না, লিপস্টিক যেন এখানে হারাম বস্তু।
টাটার সর্বত্রই পুরণো মডেলের কম্পিউটার ব্যবহৃত হলেও সব সার্ভিসই অনলাইন ভিত্তিক। ৮০ বৎসরের পুরনো হাসপাতালটি তে ৮ হাজারের অধিক ডাক্তার, নার্স, স্টাফ ও টেকনিশিয়ানদের নিবেদিত প্রাণ সেবায় চিকিৎসা বিজ্ঞানের জয়কার ধ্বণিত হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করার সুবাদে একঝাঁক প্রবীন ও নবীনের যুদ্ধ জয়ের নেশা দুরারোগ্য ক্যানসার রোগী দের অন্তরে প্রতিদিনই জাগাচ্ছে আশার আলো।
লেডি মেহেরবাই টাটা। যার বুকে ঝুলতো ডায়মন্ড ২৪৫ ক্যারেট, কহিনূরের দিগুন সাইজ, যা তার স্বামী ডোরাবজী টাটা পত্নীকে ১৯০০ সালে উপহার দিয়ে ছিলেন। ১৯২০ সালে ঐ ডায়মন্ড বন্ধকি রেখে টাটা আয়রন এন্ড স্টীল কোম্পানীকে সংকট থেকে বাঁচিয়ে ছিলেন। লেডি মেহেরবাই টাটা ১৯২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকে টেনিসে মিক্সড ডাবলসে খেলে ছিলেন। লেডি মেহেরবাই টাটা শাড়ী পরতেন। তিনি ১৯৩১ সালে লিউকোমিয়া ক্যান্সারে মারা যান। স্বামী ডোরাবজী টাটা (জামসেদজী টাটার ছেলে) স্ত্রীর সেই ডায়মন্ড ও অন্য সমস্ত গয়না বিক্রি করে ফান্ড তৈরী করেন এবং টাটা ক্যানসার হসপিটালের সৃষ্টি হয়।
মুম্বাই টাটা মেমোরিয়াল হসপিটাল ব্যবসা কেন্দ্র নয় সেবাই করাই তাদের মুখ্য কাজ।
বাংলাদেশে যে ঔষধটির মূল্য ৩০,০০০/- ত্রিশ হাজার টাকা, টাটা তার দাম নিচ্ছে ১,৫০০/- দেড়হাজার রুপী মাত্র। ভারতের খোলা বাজারে একটি Brotizomib ইঞ্জেকশন এর দাম ১২,৩০০/- বার হাজার ৩ শত রুপী, আর টাটা দাম নিচ্ছে ১,০৬৭/,
১ হাজার ৬৭ রুপী মাত্র। ঢাকায় একটি জলিড্রা ইঞ্জেকশনের দাম ৫,৫০০/- টাকা, টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল এর দাম নিচ্ছে ২০৩/-রুপি মাত্র।
আমাদের বারডেমের ভিড়ের সংগে বাহ্যিক তুলনা করা সংগত নয় এজন্য যে, এখানে চিকিৎসা সিস্টেম ও গুণগত মান উৎকর্ষতা দিয়েছে “টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল” মুম্বাইকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানের।
কত মানুষের জীবন কত রকমের, আজ এখানে তো, কাল কোথায় কেউ বলতে পারেন না। প্রায় প্রতিটি মানুষের ঘর সংসার -জীবন অনেকটা পাখির বাসার মতো প্রতিনিয়তো পরিবতর্নশীল। সেই কঠিন সময় গুলোর দিন-রাত কি ভাবে যেনো আমার পার হতে চাইতো না, তবু সময়গুলো কি ভাবে যেনো পার হয়ে গেছে। সবকিছুকে সহজ করে দেখলেই কষ্ট কমে আসে আর পৃথিবীটা অনেক সুন্দর হয়ে ওঠে, এটাই আমার মনের ভিতরকার ভাবনার কথা। নদীর যেমন জোয়ার ভাটা থাকে, মানুষের জীবনেও অনুরুপ তেমনি থাকে। প্রকৃতির এই নিয়ম সকলকেই মেনে চলতে হয়।
ভ্রমণে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেই মুগ্ধ করে তা কিন্তু নয়, প্রতিদিনের একঘেয়ে জীবন ছেড়ে কটা দিন সুন্দর ভাবে প্রকৃতির মাঝে কাটিয়ে দিয়ে আয়েশী জীবন যাপন করে কিছুটা সময় পার করে দেয়াও অনেকের উদ্দেশ্য থাকে। বাড়ীর বাহিরে কোথাও বেড়াতে গেলে কয়েক দিন, সেই জায়গায় থাকা তারপর, সেখান থেকে ফিরে আসার পর বারবার সেই জায়গার মানুষগুলোর কথা আর সেই জায়গার কথা মনে পড়ে বারবার। মায়া জন্মে যায় তাদের জন্য, মনে ব্যথা অনুভব হয়।
মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের এই পৃথিবীটাকে অনেক সুন্দর করে তৈরি করেছেন। আর এই দেশটাকেও অনেক সুন্দর ভাবে গড়ে তুলেছেন। একটা মানুষ যতই সুন্দর হোক, সে যদি নিজেকে পরিপাটি করে না রাখে, নিজেকে গুছিয়ে না রাখে রাখে, তাহলে কী ভাবে তার সোন্দর্য্য প্রকাশ পাবে?
আসুন, আমাদের দেশে টাটার মত দুইটি হসপিটাল গড়ে তুলতে যদি পারি, তাহলে হাজার হাজার ক্যান্সার ও নিউরো রোগীরা বাঁচার তাগিদে আর দেশের বাইরে যাবেন না। রাজধানী ঢাকা নগরীর মধ্যে বিশ্বমান এর ২টি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মান করতে চায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২টি নিবন্ধিত সামাজিক ফাউন্ডেশন।
১)বাংলাদেশ ক্যানসার রিসার্চ সেন্টার (বিসিআরসি) ও
২)ব্রেইন ফাউন্ডেশন।
কোন সহৃদয়বান ব্যাক্তি ক্যানসার ও নিউরোলজিকাল বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মানে যদি জমি দান করতে আগ্রহী হন তাহলে অনুগ্রহ করে নিন্মোক্ত মেইলে অথবা ফোনে যোগাযোগ করুন। সব ঠিকঠাক হলে দ্রুত কাজ আরম্ভ করতে পারবো বলে বিশ্বাস।
১) অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবদুল বারী,
চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ক্যানসার রিসার্চ সেন্টার (বিসিআরসি)।
মোবাঃ 017 11 45 71 38
২) অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রাজিউল হক,
চেয়ারম্যান, ব্রেইন ফাউন্ডেশন।
মোবাইলঃ 018 19 2115 80, jemeybd@gmail.com
জেমী হাফিজ
১৭/১১/২০১৮